সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
আজ, লোড হচ্ছে...
 
Loading stocks...

অনিয়ম ও অপরাধ

সাংবাদিক মহিউদ্দিন রিপনকে অপহরণের অভিযোগ: সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা বন্ধের দাবিঃ

সাংবাদিক মহিউদ্দিন রিপনকে অপহরণের অভিযোগ: সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা বন্ধের দাবিসাংবাদিকের নিরাপত্তা কোথায়? অপহরণ, নির্যাতন ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগের দ্রুত তদন্ত চায় সাংবাদিক সমাজসাংবাদিক মহিউদ্দিন রিপন—এক দিনে তৈরি হওয়া কোনো নাম নন। দীর্ঘদিনের পেশাগত অভিজ্ঞতা, সাহসিকতা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থানের মধ্য দিয়ে তিনি নিজের পরিচয় গড়ে তুলেছেন। অতীতে যমুনা টেলিভিশন ও মাই টিভিসহ গণমাধ্যমে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। টঙ্গী এলাকায় বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের অনিয়ম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে তাঁকে নানা বাধা-বিপত্তির মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে জানা গেছে।সেই সাংবাদিক মহিউদ্দিন রিপনকে অপহরণ, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানোর ষড়যন্ত্রের যে অভিযোগ উঠেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁকে হাত-পা ও চোখ বেঁধে আটকে রাখা হয় এবং এক নারীকে ব্যবহার করে তাঁকে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত দেখিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়। এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত উদ্‌ঘাটন করা জরুরি।প্রশ্ন হচ্ছে—অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলম ধরাই কি একজন সাংবাদিকের অপরাধ?যদি কোনো সাংবাদিককে তাঁর পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে অপহরণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা ষড়যন্ত্রের শিকার হতে হয়, তাহলে তা শুধু একজন ব্যক্তির ওপর আঘাত নয়; এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের জন্যও গুরুতর উদ্বেগের বিষয়।সাংবাদিক মহিউদ্দিন রিপনের বিরুদ্ধে ওঠা বা তাঁকে ঘিরে তৈরি করা যেকোনো অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে হবে আইনসম্মত ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায়। একই সঙ্গে তাঁকে অপহরণ, নির্যাতন কিংবা পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানোর অভিযোগে যাঁদের সংশ্লিষ্টতার কথা বলা হচ্ছে, তাঁদের ভূমিকা তদন্ত করে প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনের আওতায় আনতে হবে। অপরাধী যে-ই হোক, তার পরিচয় কিংবা প্রভাব যেন বিচারের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।মাদক ব্যবসা ও অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে কোনো সাংবাদিক যেন হুমকি, অপহরণ কিংবা ষড়যন্ত্রের শিকার না হন—রাষ্ট্রকে সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। অভিযোগে মাদক কারবারি বা কোনো সংঘবদ্ধ চক্রের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত থাকলে, তদন্তকারী সংস্থাকে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে।বর্তমান সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক সংগঠন এবং দেশের বিবেকবান মানুষের প্রতি জোরালো আহ্বান—এই অভিযোগকে কোনোভাবেই অবহেলা করবেন না।অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন করতে হবে। অভিযোগের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি মহিউদ্দিন রিপনের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।দেশের সাংবাদিক সমাজের প্রতিও আহ্বান—এ ধরনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি ছড়ানো নয়; বরং সত্য অনুসন্ধান, তথ্য যাচাই এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হোন। আজ একজন সাংবাদিকের নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ হলে আগামীকাল অন্য সাংবাদিকও একই ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।মনে রাখতে হবে, সাংবাদিকের কলম থামিয়ে দিয়ে সত্যকে চিরদিন চাপা রাখা যায় না। ভয় দেখিয়ে, অপহরণ করে কিংবা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধের চেষ্টা হলে তার বিরুদ্ধে আইনি ও গণতান্ত্রিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।আমরা সাংবাদিক মহিউদ্দিন রিপনকে ঘিরে ওঠা অপহরণ ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগের দ্রুত, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছি। একই সঙ্গে তদন্তে দায়ীদের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি। আমাদের দাবি স্পষ্ট—সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, অপরাধের নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে এবং কোনো ষড়যন্ত্রকারী যেন আইনের ঊর্ধ্বে না থাকে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হোক, সত্যের জয় হোক, স্বাধীন সাংবাদিকতা সুরক্ষিত থাকুক।

সাংবাদিক মহিউদ্দিন রিপনকে অপহরণের অভিযোগ: সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা বন্ধের দাবিঃ