উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
নগরকান্দা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার কাইচাইল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল একটি পায়ে হাঁটার রাস্তা। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলের সুবিধার্থে একটি সড়ক নির্মাণের জন্য সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হয় প্রায় ২ লাখ টাকা। তবে বরাদ্দ পাওয়ার প্রায় ৩ মাসেও পরও সড়কটির নির্মাণকাজ শুরু না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়ক নির্মাণের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্ট সদস্য ফজলের নামে বরাদ্দ হলেও বাস্তবে এখন পর্যন্ত সড়কের দৃশ্যমান কোনো নির্মাণকাজ হয়নি। ফলে বরাদ্দের অর্থের ব্যবহারের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সড়ক নির্মাণের জন্য জায়গা নির্ধারণের সময় কয়েকজনের সঙ্গে জমি ছাড়ার বিষয় নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। এ নিয়ে এলাকায় তর্ক-বিতর্ক ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে দরবার-শালিশের আয়োজন করা হয়। সেখানে আলোচনা শেষে উপস্থিত এলাকাবাসীর সম্মতিতে সড়কের সীমানা নির্ধারণ করা হয় এবং কাজ শুরু করার বিষয়ে ঐকমত্য হয় বলে দাবি স্থানীয়দের।
কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের প্রায় দুই মাস পরও সড়ক নির্মাণের কোনো কাজ না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে বলে জানান তারা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রস্তাবিত সড়কের পাশে কয়েকটি বাঁশের খুঁটি দিয়ে সীমানা চিহ্নিত করা রয়েছে। তবে রাস্তা নির্মাণের জন্য মাটি কাটা, মাটি ভরাট কিংবা অন্য কোনো দৃশ্যমান উন্নয়নকাজের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে স্থানীয়দের দাবি।
এদিকে সড়কটি নির্মাণ না হওয়ায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বর্ষা মৌসুমে অনেককে বাড়ি থেকে বের হয়ে কৃষিজমির ওপর দিয়ে কিংবা কাদা-পানি মাড়িয়ে অন্য সড়কে যেতে হচ্ছে। এতে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, নারী এবং কৃষকদের চলাচলে ভোগান্তি হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, “এলাকাবাসীর আবেদনের পর সরকারি অর্থ বরাদ্দ হয়েছে। জায়গা নিয়ে যে সমস্যা ছিল, সেটিও বসে সমাধান করা হয়েছে। এরপরও কেন রাস্তার কাজ শুরু হচ্ছে না, সেটিই আমাদের প্রশ্ন।”
তাদের অভিযোগ, সরকারি বরাদ্দের অর্থ পাওয়ার পরও সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় অর্থের সঠিক ব্যবহার হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। বরাদ্দের প্রায় ৩ লাখ টাকা আত্মসাত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। তবে এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সড়ক নির্মাণকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে বিভক্তি তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় দুটি পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। দ্রুত সড়ক নির্মাণকাজ শুরু না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা করছেন কেউ কেউ।
স্থানীয়দের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে তদন্ত করে সরকারি বরাদ্দের অর্থ কোথায়, কীভাবে ব্যয় হয়েছে তা প্রকাশ করুক। পাশাপাশি পূর্বনির্ধারিত সীমানা অনুযায়ী দ্রুত সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হোক।
অভিযোগের বিষয়ে বর্তমান ইউপি সদস্য ফজলের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের করা হলে তিনি জানান অভিযোগটি ভিত্তিহীন ও বানোয়াট কারন সড়ক যেখানে হবে সেই জায়গার উপরে বর্ষার অথৈই পানি রয়েছে যার কারনে সড়কের কাজ ক্ষনিকের জন্য বন্ধ রয়েছে। বর্ষার পানি চলে যাওয়ামাত্রই সড়কের কাজ শুরু হবে।
সরকারি অর্থে অনুমোদিত প্রকল্পের কাজ বাস্তবে হয়েছে কি না, বরাদ্দের অর্থ ছাড় ও ব্যয়ের নথিতে কী তথ্য রয়েছে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব কার—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ। এসব তথ্য যাচাই হলে অভিযোগটির প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে আইনি ব্যাবস্তা নেওয়ার অনুরোধ করা যেতে পারে.।