
- জাতীয় সংসদের নারী সংরক্ষিত আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী ড. আসমা শহীদ
মাল্টিনমিডিয়া করোসপন্ডেন্ট (BDC News বাংলা)
জাতীয় সংসদের নারী সংরক্ষিত আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার কাইচাইল গ্রামের কৃতী সন্তান আসমা শহীদ। রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম নেওয়া আসমা শহীদ দীর্ঘদিন ধরে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থেকে সামাজিক, সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।
জানা যায়, আসমা শহীদ ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা থানার একটি ঐতিহ্যবাহী মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম মোহাম্মদ রায়হান উদ্দিন স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পারিবারিক রাজনৈতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠার ফলে আসমা শহীদ ছোটবেলা থেকেই রাজনীতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত হন।
ছাত্রজীবন থেকেই তিনি নেতৃত্বগুণের পরিচয় দেন। নগরকান্দা মহাবিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে মহিলা সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে তিনি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে আত্মপ্রকাশ করেন। পরবর্তীতে তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কোষাধ্যক্ষ, সহ-সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
আসমা শহীদ শিক্ষাজীবনেও কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। তিনি নগরকান্দার এম.এন. একাডেমি থেকে এসএসসি, সরকারি সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। এরপর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.ফিল ও পিএইচডি সম্পন্ন করেন। এছাড়া শ্রীলংকা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে পরিচালিত টিভিইটি (TVET) প্রোগ্রামের আওতায় নেতৃত্ব বিষয়ক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (BIDA) এর অধীনে উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণও সম্পন্ন করেছেন।
পেশাগত জীবনে তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা। ডেভেলপার, কনস্ট্রাকশন ফার্ম, কনসালটেন্সি, এক্সপোর্ট-ইম্পোর্ট ও ইন্ডেন্টিং ব্যবসার সাথে যুক্ত রয়েছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে শিক্ষকতা এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেছেন।
সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রেও আসমা শহীদ সক্রিয়। তিনি বাংলাদেশ ইউনিয়ন সদস্য সংস্থা (বাইসস)-এর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া জনকল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক হিসেবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কাজ করে যাচ্ছেন। সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। তিনি পাক্ষিক দীপালোক ও সাপ্তাহিক যুবশক্তি পত্রিকার সহ-সম্পাদক এবং উন্মুক্ত সাহিত্য পরিষদের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। ১৯৮৭ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০১৪ সালের নির্বাচনকালীন আন্দোলন, ২০১৫ সালের অসহযোগ আন্দোলন এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে আয়োজিত মহাসমাবেশেও তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
পারিবারিকভাবেও তিনি একটি রাজনৈতিক ঐতিহ্যের ধারক। তার স্বামী মরহুম এম. শহীদুল্লাহ শহীদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন এবং কেন্দ্রীয় রাজনীতিতেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তার সন্তানরাও শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি সামাজিক ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সম্পৃক্ত রয়েছে।
ব্যক্তিগত জীবনে নানা প্রতিকূলতা ও রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার হলেও তিনি রাজনৈতিক আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। ২০১৯ সালে ঈদের পূর্বে পারিবারিকভাবে সন্ত্রাসী হামলায় তিনি তার নিকটাত্মীয়দের হারান বলে দাবি করেন। এরপরও ন্যায়বিচারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে গেছেন।
আসমা শহীদ বলেন, ছোটবেলা থেকেই মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং দেশের জন্য কাজ করার শিক্ষা পেয়েছি। জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়ে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণে নারী সংরক্ষিত আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আসমা শহীদের নাম গুরুত্বের সাথে আলোচিত হচ্ছে।

অনলাইন ডেস্ক