পদ্মা নদীর প্রবল ঢেউয়ে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার বেজগাঁও ইউনিয়নের নদীতীরবর্তী বেরিবাঁধে ভয়াবহ ফাঁটল দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যার আগমুহূর্তে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নেছার উদ্দিন।
বজ্রপাতের গর্জন আর নদীর ঢেউয়ের তাণ্ডবে আতঙ্কে কাঁপছে পদ্মা পাড়ের শত শত পরিবার। নদীভাঙনের আশঙ্কায় কেউ ঘরের মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন, কেউবা উদ্বেগভরে তাকিয়ে আছেন আকাশের দিকে।
বাঁধঘেঁষা বাসিন্দারা বলেন, প্রতি বছর এই ভয়ংকর অবস্থা হয়। কিন্তু কবে স্থায়ী বাঁধ হবে জানি না। এবার তো ভাবছিলাম কিছুটা শান্তি পাবো, কিন্তু এই ফাটল দেখে মনে হচ্ছে সব ভেসে যাবে।
স্থানীয় এক গৃহবধু কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমরা তো গরিব মানুষ, ভাঙলে যাব কোথায়? ছোট ছোট বাচ্চা নিয়ে দিন কাটাই টেনশনে। প্রশাসনের লোক আসায় একটু ভরসা পেলাম।
ইউএনও মোঃ নেছার উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে স্থানীয়দের আশ্বস্ত করে বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলোর মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।” তিনি স্থানীয়দের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেন, আপনারা আতঙ্কিত হবেন না, আমরা আপনাদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বে দেখছি।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, প্রতিবছর পদ্মার ভাঙনে মানুষ জমি হারাচ্ছে, বাড়িঘর হারাচ্ছে। অথচ এখনও কোনো টেকসই প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি। এ অবস্থায় শুধু অস্থায়ী প্রতিরোধ নয়, নদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

মোঃ নাজমুল ইসলাম পিন্টু, স্টাফ রিপোর্টার